রাকসু ভবনে হামলায় প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, ৬ দাবি 

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৫৭ পিএম


রাকসু ভবনে হামলায় প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, ৬ দাবি 
ছবি: আরটিভি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি, রাকসু ভবনে হামলা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। এ সময় সংগঠনটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাকসু ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২৬ জুলাই সংস্কৃত বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহসিন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত ছুরি প্রদর্শন করে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন এবং নিজের কাছে পিস্তল থাকার কথাও বলেন। অভিযোগের পর সেদিন রাতেই প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়।

রাকসুর অভিযোগ, ওই সময় আনাস নামে এক ব্যক্তি অভিযুক্তের অভিভাবক পরিচয়ে প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন এবং প্রক্টরের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মামলা করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে আনাসের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২৭ জুলাই পুনরায় প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষকে ডাকা হলে মুহসিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। বিষয়টির নিষ্পত্তির শেষ পর্যায়ে আনাস আবারও প্রক্টর অফিসে এসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন এবং প্রক্টরিয়াল বডি, রাকসুর জিএস, এজিএস, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও সমাজকল্যাণ সম্পাদকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

রাকসুর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্টরের উপস্থিতিতে আনাসের মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় এবং তিনি নিজেও পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর না করে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, পরে আনাস, ছাত্রদল নেতা শাফিন ও তাদের সহযোগীরা রাকসু ভবনে হামলা চালান। এতে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার শারীরিকভাবে আহত হন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত হন।

রাকসুর দাবি, পরবর্তীতে আনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে আশ্রয় নিলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার দাবিতে রাকসু, হল সংসদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেখানে অবস্থান নেয়। তবে প্রশাসনের দীর্ঘ সময়ের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাকসু ছয় দফা দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো, নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, রাকসু ভবনে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনা, দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অতীতে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ও ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসু নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নারী শিক্ষার্থীর প্রতি সহিংসতা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষায় গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান।

আরও পড়ুন

সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাকসু ভবনে হামলার পর আমরা প্রক্টর অফিসে গিয়ে বারবার বলতে থাকি ওদেরকে অ্যারেস্ট করার বিষয়ে। কিন্তু ২০-২৫ মিনিট পার হয়ে গেলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এই পরিস্থিতি সৃষ্টিই হতো না, যদি তাদেরকে প্রথমেই অ্যারেস্ট করা হতো। 

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission